বাংলাদেশের এ মুহূর্তের সংকট হচ্ছে একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। এমন যুগপৎ সংকটের সমাধান করা আসলে কঠিন হয়ে যায়। আমাদের এখানে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা যেভাবে ভেঙে পড়েছে, এ রকম খারাপ অবস্থা কিন্তু অতীতে কখনো ছিল না। এটি ঠিক, বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনকে ম্যানিপুলেট করার জন্য কায়দাকানুন করা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখনকার মতো অতটা তীব্র ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সংকট উত্তরণে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনাও হচ্ছে না।
সরকার কথা বলতে চাইলে তো নিশ্চয়ই তারা কথা বলবে। কিন্তু উদ্যোগটা তো প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আসতে হবে। অতীতেও এমন উদ্যোগ ছিল, তাতে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই ধরনের উদাহরণই কিন্তু আছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দাওয়াত দিলেন এবং কথাও দিলেন—নির্বাচনে সরকার থেকে কোনো প্রভাব বিস্তার করা হবে না। কিন্তু দিনের নির্বাচনটা রাতে হলো। আমার কাছে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, এ রকম করে নির্বাচন করেও সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকল। এরপরও জনগণের মধ্যে যে অসন্তোষ আছে, যা আমরা ব্যক্তিগত আলাপে অনেকের মধ্যেই দেখি, কিন্তু সেটি সমষ্টিগত ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ হচ্ছে না।
হ্যাঁ, তারা কার্যকর কোনো প্রতিবাদ করেনি। একটা সভা-সমাবেশ করেও সেটি হতে পারত। হতে পারে, তাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে যে শত শত মামলার কথা বলা হয় বা গুম-খুনের কথা বলা হয়, সেসব বিবেচনা করে তারা তাৎক্ষণিকভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি।